728

শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ হাসান বলেছেন, কিছু পক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা বিতর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করে তিনি শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, কিছু মহল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) ঢাকায় সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ১১তম জিএসসি ন্যাশনাল সায়েন্টিস্ট ম্যানিয়া-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত ও বিবাদ দেশবাসীর কাছে তাদের নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে, এমন মন্তব্য করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক উপস্থাপনা জুলাই অভ্যুত্থানকেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা সহজ করে তুলবে। এ সুযোগ যেন কেউ নিতে না পারে।” তিনি আরও বলেন, "আমরা এতদিন বিক্ষোভ ও রাজপথে ছিলাম, এখন রাষ্ট্র গঠনের সময় এসেছে। আমাদের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি যোগ করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুফল যেন দেশের প্রতিটি মানুষ পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে প্রত্যাশা নিয়ে সবাই আন্দোলন করেছে, তা পূরণ হবে। জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জোগিয়েছে, যার ভিত্তিতে আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়তে পারবো।”

কলেজের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, "আমাকে স্যার বলার দরকার নেই, আমি আপনাদের ভাই। গণ-অভ্যুত্থানের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাব। ভুল করলে শুধরে দেব।” তিনি বলেন, "যদি জাতির প্রয়োজন হয়, আমরা আবার রাস্তায় নামবো।"

এছাড়াও, তিনি জানিয়ে দেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হবে এবং শহীদের পরিবার পুনর্বাসিত হবে, পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জেন-জি পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছে তারা আন্দোলনে রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে পারে, তারা অলস নয়।” তিনি সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে, বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ শমশের আলী বলেন, "বিজ্ঞানে বাতিক না থাকলে বিজ্ঞান এগোতে পারে না। আন্দোলনকারীদের স্বপ্ন যেন সত্য হয়, এবং তারা যেন আজীবন স্বাস্থ্যসেবা পায়।”

সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম আমিনুল হক বলেন, "দেশ গঠনে বিজ্ঞানের বিকল্প নেই, তাই তরুণদের দায়িত্ব নিতে হবে।”

এছাড়া, উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম সরকারি বিজ্ঞান কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


No comments:

Powered by Blogger.