728

পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ কমছে

 

দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল ৮০ শতাংশ, যা ২০২১ সালে এসে কমে ৫৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, মূলত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারী শ্রমিকরা পোশাক শিল্পে কাজ করছেন। তবে ৩৫ বছর বয়সের পর তারা এই শিল্প ছেড়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এই বিকল্প পেশাগুলোর মধ্যে কৃষি, গৃহস্থালী কাজ এবং নিজের মালিকানাধীন দর্জির দোকান পরিচালনা অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলোতে অস্থিরতা, অধিক আয় করার সম্ভাবনা এবং তুলনামূলকভাবে স্বাধীনতা প্রাপ্ত পেশাগুলোর প্রতি আগ্রহ তাদের এই পরিবর্তনে প্রভাব ফেলছে।

নারী শ্রমিকদের সংখ্যা কমতে থাকলে দক্ষ শ্রমিকের অভাব তৈরি হতে পারে, যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে স্থবিরতা আনতে পারে এবং এর ফলে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে, নারীদের পোশাক খাতে আগ্রহী করার জন্য নিরাপদ ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়মতো ন্যায্য মজুরি প্রদান জরুরি। পাশাপাশি, এই খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ডিকার্বোনাইজেশন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বা প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয়করণের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। এই তথ্যগুলো শনিবার গুলশানের একটি হোটেলে 'বুনন ২০৩০: বাংলাদেশের পোশাক খাতে মূল কার্যক্রম: গভীর পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক আলোচনায় তুলে ধরা হয়, যার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লাইটক্যাসল পাটনার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জাহেদুল আমিন।

ঢাকা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিজনেস কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করেছে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান, যেখানে উল্লিখিত শিরোনামে প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রতিবেদনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর প্রশাসক এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার, প্রাইড গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ মোমেন, বিল্ড এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম এবং পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক আইনি ইসলাম অপরাজিতা ও বুনন প্রকল্প নিয়ে সূচনা বক্তব্য দেন।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হাতেম এলডিসি থেকে উত্তরণের পর টেকসই জিএসপি প্লাস লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কৌশল গ্রহণের বিষয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ২০২৩-২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে, এবং এই খাতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করা হয়েছে, যা জাতীয় জিডিপিতে ১০.৩৫ শতাংশ অবদান রেখেছে। বর্তমানে এই শিল্পে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। তবে, যদি এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হয়, তাহলে পোশাক খাত এবং দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।

No comments:

Powered by Blogger.