728

শেখ হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে: ফখরুল

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে ভয়াবহ অবস্থা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। আন্দোলনকে (জুলাই-আগস্ট) ভিন্ন দিকে নেওয়া হচ্ছে। এমন কিছু কাজ হচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনে লেখক-শিল্পীদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যে ত্যাগ ও প্রিয়জনের হারানোর কষ্ট সহ্য করা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পতিত ফ্যাসিবাদ এই অবস্থার সৃষ্টি করছে। যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তারা কেন বিভাজন সৃষ্টি করছেন, এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে যে কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, তাতে ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এবং পুরো আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে পরিচালনা করার চেষ্টা চলছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়নি; বরং সবসময় যুদ্ধ, লড়াই ও রক্তপাত ঘটেছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এমন কিছু কাজ করছি, যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে।’

ভারতের গণমাধ্যমে ইসকন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল জানান, প্রশ্নটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি একটি বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা দায়িত্বে এসেছেন, এ দায়িত্বকে দায়িত্বশীলভাবে পালন করতে হবে। জাতির স্বার্থে কাজ করতে হবে এবং কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা এবং সেই অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়া। অনেকেই বলছেন যে নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, তবে এর জন্য একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

ফখরুল কবি ও লেখকদের জাতি গঠনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে দেখা যায়নি, কারণ আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। এখন লেখকদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে।

সভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, যিনি দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অশনিসংকেতের কথা উল্লেখ করেন এবং সকলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কিছু লোক বলছেন যে সংস্কার না করে নির্বাচন হবে না, কিন্তু জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সংস্কৃতির সংস্কার প্রয়োজন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন, এবং বলেন যে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে, যা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের আহ্বায়ক মোহন রায়হান।

No comments:

Powered by Blogger.