728

ইসকন নিষিদ্ধ করে আ.লীগ ও ভারতকে বার্তা দিতে হবে

 

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, তাদের দাবি করে বলেছে যে, ভারতের কোনো ‘সেবাদাস’ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশিয়াসনেস) নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং ভারতকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত। তারা আরও বলেন, ভারতের কোনো ‘লেসপেন্সার’ (অনুগত সহযোগী) আর বাংলার ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত হতে পারবে না।

আজ শুক্রবার বাদ জুমা, ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশটির আয়োজন করা হয় ‘উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন ইসকন কর্তৃক মসজিদ এবং আদালতের স্থাপনাবলির ভাঙচুর, বিচারালয় প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট শহীদ সাইফুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা, এবং র–এর ইশারায় দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন যে, একটি সুপরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সাইফুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিচার করা যথেষ্ট নয়; বরং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা রয়েছেন, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি। সাইফুল হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে মদদদাতা হিসেবে আসামি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিন, ২৯ নভেম্বর, ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে হেফাজতে ইসলাম একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং কিছু ব্যক্তি ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন। মামুনুল হক বলেন, "ভারতকে নয়, দেশের জনগণকে খুশি করুন," এবং ভারতীয় হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ভারতের রাষ্ট্রীয় নীতি পরিবর্তন করতে হবে, নতুবা জনগণ ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে রাজপথে নামবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের নেতৃত্বে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন এবং দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইসকনকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, যদি সরকার বা বিচার বিভাগ এই বিষয়ে গড়িমসি করে, তবে হেফাজতে ইসলাম বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

মামুনুল হক ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ভারতের কোনো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) থেকে তারা একঘরে হয়ে পড়েছে। ভারতের নেতৃত্বে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেও তিনি দেশের মানুষের প্রতি শান্তি ও ধৈর্যের আহ্বান জানান।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বক্তব্য দেন, এবং মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন সমাবেশটির সঞ্চালনা করেন।

No comments:

Powered by Blogger.