728

এটা কোন ধরনের প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, ভারতের আচরণ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল


 বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ভারতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেছেন, "এটা কোন ধরনের বন্ধুত্ব, এটা কোন ধরনের প্রতিবেশীসুলভ আচরণ?"

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনের রয়্যাল রিজেন্সি হলে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফখরুল এসব কথা বলেন। সমাবেশটির আয়োজন করেছিল যুক্তরাজ্য বিএনপি।

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, পতাকা নামিয়ে সেটি পুড়িয়ে দেওয়া, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভ, সিলেট ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে উগ্রবাদী ভারতীয়দের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা—এসব প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "এটা কোন ধরনের বন্ধুত্ব? এটা কোন ধরনের প্রতিবেশীসুলভ আচরণ?" ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, কিছু লোক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা গত ১৫ বছরে ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন এবং শত শত মানুষ গুম হয়েছেন। এই শাসককে ভারত আশ্রয় দিয়েছে, এবং শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।

ভারতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল। তবে তিনি ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "আপনারা বড় দেশ, তাই বলে বাংলাদেশে যারা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তাদেরকে ছোট করে দেখবেন না।"

মির্জা ফখরুল বিএনপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে এক হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার আহ্বান জানান।

তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই সরকারের মূল দায়িত্ব হল যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি বলেন, নির্বাচন যত দেরি হবে, সমস্যা তত বাড়বে এবং গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, "আমাদের মধ্যে কিছু উগ্রতা ও হঠকারিতা থাকতে পারে, তবে এভাবে কখনোই সঠিক পথে এগোনো সম্ভব নয়। আমাদের সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।"

ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে, এবং প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

No comments:

Powered by Blogger.