ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা অভিশংসন ভোট বর্জন করেন। এদিকে পার্লামেন্টের বাইরে তাঁর পদত্যাগ দাবিতে দিনভর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে অভিশংসনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার সিউলে পার্লামেন্টের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হলেও ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা অভিশংসন ভোট বর্জন করেন, ফলে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
পূর্বে, গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ইউন, যার ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতারা অবস্থান নেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভের মুখে তিনি এই ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, এবং বিরোধী দল প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়। তবে, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পূর্ণ হতে আরও দুই বছর বাকি রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর ১৯২টি আসন রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে ২০০ ভোট প্রয়োজন ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে ক্ষমতাসীন দল পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) ভোটের আগে চেম্বার ছেড়ে চলে যায়, যা পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বিরোধীরা তাদের বিদ্রোহী বলে অভিযোগ তুলেন। পিপিপি দলের তিন সদস্য ভোট দেয়, তবে স্পিকার ভোট ফল ঘোষণা করতে বিরত থাকেন এবং পিপিপি সদস্যদের পার্লামেন্টে ফিরে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই পরিস্থিতিতে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে লাখো মানুষের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। অনেকে প্রেসিডেন্ট ইউনের পদত্যাগ দাবি করেন, তবে অভিশংসন প্রক্রিয়ার ব্যর্থতায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে, ইউনপন্থীরা এ ঘটনায় স্বস্তি পেয়েছেন।
ভোটের আগে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে, ইউন বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তটি মরিয়া হয়ে নিয়েছিলেন, যা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। তার বক্তব্যে তিনি জানান, এ জন্য তিনি দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এদিকে, পিপিপি দলের নেতা হান ডং-হুন ইউনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সামরিক আইন জারির সময়, গ্রেপ্তারের তালিকায় নিজের দলের নেতার নামও ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিশংসন প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হবে এবং পিপিপি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারাতে পারে। তবে, যদি অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়, তবে তা সাংবিধানিক আদালতে যাবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের পর তা কার্যকর হবে।
একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ইউনের জনপ্রিয়তা কমে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে এবং জনগণ তার পদত্যাগ চাইছেন। এর পাশাপাশি, পুলিশ বিদ্রোহের অভিযোগে ইউন ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

No comments: