রাজনীতিকদের পর ধর্মীয় নেতারা দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, এবং স্বাধীন অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রতি নিজেদের ঐক্য প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থাকার এবং সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক সংলাপে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, ইসলামি বক্তা এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতারা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হওয়া এই সংলাপে অংশগ্রহণকারী নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন।
এ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়, যখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। গতকালও, প্রধান উপদেষ্টা দেশের সকল ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। এর আগে, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রধান উপদেষ্টা, ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "প্রকৃত খবর জানতে হবে এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে।" তিনি আরও বলেন, "যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সরকার সব দোষীকে বিচারের আওতায় আনবে।"
এদিনের সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান, ইসলামি বক্তা শায়খ আহমদুল্লাহ, বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতারা। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যারা সকলেই বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ঐক্য বজায় রাখার প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একত্রে শান্তিতে বাস করেন। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান বলেন, "বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে না, বরং এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কোনো ষড়যন্ত্রকারীকে আমরা কঠোর হাতে দমন করব।"
ফাদার আলবাট রোজারিও বলেন, "কঠিন সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।" তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এছাড়া, অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা বলেন, "বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি এবং ঐক্য রয়েছে, এবং আমরা চাই যে, পুরো বিশ্ব জানুক আমরা একটি সম্প্রীতির দেশ।"
সংলাপ শেষে, ধর্মীয় নেতারা একযোগে দেশের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অপপ্রচার প্রচারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকার যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। তিনি জানান, এই সরকার কোনো ধরনের উসকানিমূলক কাজ বা হটকারিতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। তিনি আরও বলেন, "আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং দেশের ভেতরকার সংহতি বাড়াব। যতই বাহ্যিক ষড়যন্ত্র চলুক, যদি আমরা রাজনৈতিক এবং সম্প্রদায়গতভাবে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তবে যত অপপ্রচারই হোক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে—এটাই ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন।"
মাহফুজ আলম আরও বলেন, "যদি কোথাও কোনো গোষ্ঠী বিরুদ্ধে নিপীড়ন হয়ে থাকে, তা আমরা অস্বীকার করছি না, কারণ এটা বলাটা সত্য নয়। তবে, এমন ঘটনা ঘটলে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানো উচিত।"

No comments: