728

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে অবরোধের হুমকি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর


 বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের ‘জেগে ওঠার ডাক’ দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আগামী মঙ্গলবার ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশসহ ভারতের বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানানো হবে।

আজ বৃহস্পতিবার কলকাতার ধর্মতলার রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ৫০টি সনাতনী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা উচিত এবং গোটা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি কারাবন্দী ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিও জানান।

শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া, শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, ৬ ডিসেম্বর রাজ্যজুড়ে ‘শৌর্য দিবস’ পালন করা হবে। এই দিনটি অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্মরণে কলকাতার শ্যামবাজার থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বিজেপি ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত অবরোধ করবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের দাবি তুলবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতা করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার ইসকন আশ্রমের অধ্যক্ষ কার্তিক মহারাজ। তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, যদি পরিস্থিতি পরিবর্তিত না হয়, তবে বৃহৎ আকারে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রাজ্যের ধানবাদ এবং গুমলা শহরে হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।

ধানবাদের বিক্ষোভে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের জন্য ভারতের সরকারের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ধানবাদের ইসকন, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), বজরঙ্গ দলসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ধানবাদের আইনপ্রণেতা রাজ সিনহা বলেন, "বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করতে এবং মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।"

এছাড়া, গুমলা শহরে ‘স্বর্ণ সনাতন ধর্ম’ ব্যানারে বিক্ষোভ হয়েছে এবং সেখানকার বিক্ষোভকারীরা গুমলা ডেপুটি কমিশনারের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। তারা বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রপতির ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান।


No comments:

Powered by Blogger.